কাশীরাজ সুপর্ণ কেবল সুপুরুষ ছিলেন না, বহুগুণান্বিত বিদগ্ধ রসিক পুরুষ ছিলেন। বীণা, বেণু, মৃদঙ্গ, মন্দিরা প্রভৃতি বিবিধ বাদ্য বাদনে তাঁহার নিপুণতা ছিল, সঙ্গীতে এবং চিত্ররচনাতেও বিশেষরূপ অধিকার ছিল। তাঁহার স্বর্গীয় পিতৃদেবের মতো তাঁহারও কেবল যুদ্ধব্যাপারে অর্থাৎ অস্ত্রশস্ত্রাদির চর্চায় তেমন আগ্রহ বা পারদর্শিতা ছিল না। সে-জন্য বিশেষ ক্ষতিও হয় নাই, কারণ বহুদিন পূর্বে শ্রীরামচন্দ্রের অশ্বমেধযজ্ঞকালে তাঁহার পিতৃদেব যখন কোশলেশ্বরের আনুগত্য স্বীকার করেন, তখন হইতেই তাঁহাদিগকে আর রাজ্যরক্ষার জন্য চিন্তা করিতে হয় নাই। পিতার মৃত্যুর পর তিনি যখন রাজ্যলাভ করেন, তখন রাজাধিরাজ রামচন্দ্রের সুশাসনে সমগ্র জম্বুদ্বীপে শান্তি ও শৃঙ্খলা বিরাজ করিতেছে, প্রজার ও রাজার ঘরে সুখ ও প্রাচুর্যের অবধি নাই। নিকটস্থ অন্য কোনও সামন্তনৃপতি প্রত্যন্তদেশে কোনওরূপ প্রতিকূল আচরণ করিলে অথবা প্রজাপুঞ্জের মধ্যে কোথাও অসন্তোষের বহ্নি ধূমায়িত হইতেছে জানিতে পারিলে তিনি তাঁহার সভাস্থ কৌশলেশ্বরের দূতকে সে-কথা জানাইলেই প্রতিকারের ব্যবস্থা হইত, সম্রাটের দূত অথবা সেনাবাহিনী অচিরে তাঁহার সকল সমস্যার সমাধান করিয়া দিত। এতদবস্থায় কাশীরাজ সুপর্ণ আশৈশব কলাচর্চা করিয়াই দিনযাপন করিয়াছেন, মধ্যে মধ্যে সুন্দরী এবং সুগায়িকা একটি করিয়া রাজকন্যাকে বিবাহ করিয়া অন্তঃপুরের শোভা এবং নিজের রূপলিপ্সা ও গীতশুশ্রূষা চরিতার্থ করিয়াছেন। বয়স চত্বারিংশ অতিক্রম করিলেও তাহাকে বিগতযৌবন বলা চলিত না। অষ্টাদশী কালিন্দীর সহিত বয়সের ব্যবধান অবশ্য তাঁহার মনের অগোচর ছিল না, সে-জন্য তাঁহার কুণ্ঠারও অবধি ছিল না। তাহাকে সুখে রাখিবার জন্য তিনি সাধ্যমতো অর্থব্যয় করিতেন, তাহার সহিত গীতবাদ্যে মাতিয়া দিবারাত্রির অনেকাংশ অতিবাহিত করিতেন। তাহার বিভিন্ন ভঙ্গীর অনেকগুলি ছবি তিনি আঁকিয়াছিলেন, তাহাকে লইয়া বরুণার পরপারে উদ্যানবিহারও প্রায় তাঁহার নিত্যকর্ম হইয়া দাঁড়াইয়াছিল। সুপর্ণ নিজে আশৈশব সাধনা করিয়া প্রৌঢ় বয়সে যে চতুঃষষ্টি কলার মধ্যে মাত্র চত্বারিংশটিতে অল্পবিস্তর দক্ষতালাভ করিয়াছিলেন—কালিন্দী যৌবনের প্রারম্ভেই কিরূপে তাহার প্রায় সমস্তগুলিতে নৈপুণ্যলাভ করিল তাহা তিনি ভাবিয়া পাইতেন না। প্রধানা রাজমহিষী অবন্তীরাজকুমারী মহাদেবীর বাক্-বৈভব অধিক ছিল, তাঁহার সহিত কাব্য আলোচনা করিয়া বা কথা কহিয়া সুখ ছিল, কালিন্দীর সেরূপ বৈদগ্ধ্য নাই—সে-কথা মানিতেই হইবে। কিন্তু তাহার সহিত কথা কহিবার তো বেশী প্রয়োজন হয় না; শুধু চাহিয়া থাকিলেই দিন কাটিয়া যায়। মহাদেবী তো তাহার মতো রূপের তরঙ্গ তুলিয়া হাস্যে লাস্যে এমন করিয়া স্বর্গ-মর্ত্য ভুলাইয়া দিতে পারিতেন না! মধ্যমা মহিষী সুপ্রিয়া সৌবীররাজদুহিতা। তাঁহার কণ্ঠস্বর কালিন্দীর চেয়ে মধুর, একসময় কাশীরাজ দিবারাত্র তাঁহার মুখনিঃসৃত সঙ্গীতসুধা পান করিয়া আত্মবিস্মৃত হইয়া থাকিতেন; এখন বুঝিতে পারেন, কালিন্দীর মতো উচ্চাঙ্গের তালমানের জ্ঞান তাঁহার ছিল না। তৃতীয়া মহিষী শাশ্বতী দেবী অঙ্গরাজের অঙ্গজা। তিনি অত্যন্ত লজ্জাশীলা ও ভক্তিমতী। দেখা হইলেই পুষ্পচন্দন দিয়া স্বামীর চরণবন্দনা করিতেন, তাঁহার পাদোদক পান করিতেন, নিত্য-নূতন দেবমন্দিরের নির্মাল্য এবং সাধু-সন্ন্যাসীর আশীর্বাদী পুষ্প লইয়া স্বামীর বক্ষে এবং মস্তকে স্পর্শ করাইতেন। ব্রতে-উপবাসে অপরূপ রূপযৌবন ক্ষয় করিয়া, স্বামী কাছে আসিলেই বিবাহের দশ বৎসর পরেও সসংকোচে অবগুণ্ঠনে মুখ ঢাকিয়া তিনি যে ক্রমেই স্বামীর অন্তর হইতে সরিয়া যাইতেছেন— তাহা বুঝিতেও পারিতেন না, ইদানীং স্বামীর অবহেলায় ব্যথিতা হইয়া অদৃষ্টকে দোষ দিয়া গোপনে অশ্রুমোচন করিতেন। কাশীরাজ কর্তব্যের অনুরোধে এখনও ইঁহাদের সকলের কক্ষেই সপ্তাহে দুই-একবার যান, মাঝে মাঝে মন বিশেষ প্রফুল্ল থাকিলে চারজন রাজ্ঞীকে একরথে লইয়াও ভ্রমণে বাহির হন, কিন্তু তাঁহার প্রাণের আকর্ষণ যে নবীনা রাজ্ঞীর প্রতি, তাহা অন্য সকলের বুঝিতে বাকী থাকে না। রাজার দ্বিতীয় বিবাহের সম্বন্ধে যখন প্রথম আলোচনা শুনা গিয়াছিল, তখন মহাদেবী তিনদিন নিজ কক্ষ হইতে বাহির হন নাই, তিনমাস স্বামীর সহিত বাক্যালাপ করেন নাই, তৃতীয় বিবাহের সময় সপত্নীর সহিত মিলিত হইয়া সাধ্যমতো বাধা দিয়াছিলেন, উভয়ে অনেক কাকুতি-মিনতি এবং বাক্যবাণ প্রয়োগ করিয়াছিলেন, সুপ্রিয়া তো পিতৃগৃহে চলিয়া যাইতে প্রস্তুতই হইয়াছিলেন। কিন্তু শাশ্বতী যখন স্বামীর ভাগ লইয়া কোনও বিবাদই করিলেন না, তাঁহার ইহকাল সপত্নীদের নিবেদন করিয়া পরকালের উন্নতির জন্য স্বামিসঙ্গ এড়াইয়াই চলিতে লাগিলেন, তখন মহাদেবী ও সুপ্রিয়াও ভাগ্যের নিকট আত্মসমর্পণ করিয়া তাঁহার সহিত সন্ধিস্থাপন করিলেন। কালিন্দীর বিবাহের সময় তিন মহিষী মিলিয়া তাহাকে বরণ করিয়াছিলেন, ভগ্নীসম্বোধনপূর্বক আলিঙ্গন করিয়াছিলেন, কিন্তু কালিন্দীরূপিণী মন্থরাকে তাঁহারা ভুলাইতে পারেন নাই। সে প্রথম হইতেই সপত্নীদিগকে সন্দেহের চক্ষে দেখিয়াছিল, পতিগৃহে একেশ্বরী হইবার—সপত্নীদিগের উপর প্রভুত্ব বিস্তার করিবার সংকল্প লইয়াই সে রাজপুরীতে প্রবেশ করিয়াছিল। স্বামীকে করতলগত করিবার জন্য সুপরিচিত দুইটি সার্থক আদর্শ,—কৈকেয়ী এবং সীতা,—তাহার চক্ষুর সম্মুখে ছিল, সময় বুঝিয়া সে একটির বা অপরটির অনুসরণ করিত। রাজা বয়োবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আরামপ্রিয় হইয়াছিলেন, রাজকন্যা পত্নীরা যে শারীরিক সুখ তাঁহাকে সর্বদা দিতে পারিতেন না মন্থরা তাহা সহজেই দিতে পারিত। সে প্রতিদিন স্নানের পূর্বে দাসীর মতোই সুপর্ণের আপাদমস্তক তৈলমর্দন ও অঙ্গসংবাহন করিয়া দিত, প্রতিরাত্রে তাঁহার পদসেবা করিত, ললাটে করকমল সঞ্চালন করিয়া এবং ব্যজন করিয়া নিদ্রাকর্ষণে সহায়তা করিত, বিবিধপ্রকার অন্নব্যঞ্জন স্বহস্তে রন্ধন করিয়া কাছে বসিয়া ভোজন করাইত। এই সমস্ত প্রিয়কার্য সাধনের দ্বারা একদিকে সে যেমন রাজার হৃদয়মন জয় করিতেছিল, অপরদিকে তেমনি সুযোগ পাইলেই কথাচ্ছলে সপত্নীদিগের সামান্যতম দোষত্রুটিও তাঁহার কর্ণগোচর করাইয়া দিনে দিনে তাঁহাকে তাঁহাদের প্রতি বিরূপ করিয়া তুলিতেছিল। সুপর্ণ দাসদাসীর সেবায় অভ্যস্ত হইলেও মনের মধ্যে তাঁহার একটা অভাববোধ রহিয়া গিয়াছিল, তাঁহার রাজদুহিতা পত্নীরা সে অভাব পূর্ণ করা তো দূরের কথা, বুঝিতেই পারেন নাই। কালিন্দীর দ্বারা এতদিনে সে অভাব পূর্ণ হওয়ায় রাজার কৃতজ্ঞতার অন্ত ছিল না। কালিন্দীর পরশ্রীকাতরতা এবং তীক্ষ্ণ বৈষয়িক বুদ্ধি মাঝে মাঝে তাঁহাকে আঘাত করিত। গৌড়দেশীয় শুক্তুনি এবং শুঁটকি-মৎস্য, কেকয়দেশীয় পিণ্ডখর্জুর ও বিদেহদেশীয় রসালফলের রসনাতৃপ্তিকর যত গুণই থাকুক, তাহাদের আলোচনায় সুপর্ণ তেমন রস পাইতেন না, অপরদিকে নবীনা রাজ্ঞীর সেই সবই ছিল প্রধান আলোচ্য বিষয়। অবশ্য জম্বুদ্বীপের কোন্ অঞ্চলের ক্ষৌমবস্ত্র এবং কার্পাসবস্ত্র সর্বশ্রেষ্ঠ এ-সমস্ত তথ্যও ছিল তাঁহার কণ্ঠস্থ। রানীর মানসিক দৈন্যের পরিচয় এক-এক সময়ে রাজার বিরক্তি উৎপাদন করিত, তথাপি তিনি রূপমোহে পরক্ষণেই সমস্ত ভুলিয়া যাইতেন। তাঁহার ধর্মবুদ্ধি একেবারে লুপ্ত হয় নাই, সে জন্য কর্মচারীদিগের বেতনহ্রাস এবং প্রজাদের করবৃদ্ধি করিবার জন্য সময় চাহিয়াছিলেন, উচ্ছিখের বাক্যে উৎসাহিত হইয়া ঐ সমস্ত চিত্তা তিনি আপাততঃ মন হইতে বিসর্জন দিলেন।
সেদিন চৈত্রের অমাবস্যা, সুপর্ণের জন্মতিথি। ঊষাকালে কাশীরাজ সপরিবারে গঙ্গাস্নান এবং সপারিষদ্ শোভাযাত্রা করিয়া বিশ্বনাথমন্দিরে প্রণামনিবেদনপূর্বক বাতায়ন হইতে প্রজাসাধারণকে দর্শন দিলেন। রাজপ্রাসাদে সারাদিন গীতবাদ্য এবং পানাহার ও উৎসব চলিল, সহস্র সহস্র সাধুসন্ন্যাসী এবং দরিদ্র ব্যক্তি আহারান্তে কম্বল, বস্ত্র এবং রৌপ্যমূদ্রা লইয়া রাজার দীর্ঘায়ু কামনা করিয়া গেল। কাশীরাজ দিবসের তিনপ্রহর অন্য তিন রাজ্ঞীর কক্ষে কাটাইয়া সন্ধ্যার অনতিকাল পূর্বে কালিন্দীর কক্ষে আসিতেছিলেন, পথে মহাদেবীর সঙ্গে দেখা। তিনি বলিলেন, “মহারাজ, আপনি প্রতিবৎসর জন্মদিনে আমাদের লইয়া নৌকাবিহারে খান, আজ কি সুবিধা হইবে না?”
কাশীরাজ অপ্রস্তুত হইয়া বলিলেন, “ঠিক বটে, স্মরণ ছিল না। তোমরা তিনজনে সখীদের লইয়া প্রস্তুত হও, আমি নূতন রাজ্ঞীকে লইয়া অবিলম্বে আসিতেছি। বেত্রবতীকে দিয়া সংবাদ পাঠাও, প্রমোদতরণী যেন প্রস্তুত থাকে।”
মন্থরার মনটা ভালো ছিল না। প্রথমতঃ, সারাদিন নানা উদ্যোগ-আয়োজনে তাহাকেও অংশ লইতে হইয়াছে, সেজন্য শরীরটা ক্লান্ত; দ্বিতীয়তঃ, সারাদিন যে অর্থের অপচয় সে দেখিয়াছে, তাহা সহ্য করা কঠিন, সেই অর্থে তাহার জন্য স্বর্ণপর্যঙ্ক বা মর্মরগৃহ নির্মাণ করিলে তাহার মতে সদ্ব্যয় হইত; কিন্তু রাজা মুখে তাহার আনুগত্য স্বীকার করিলেও কার্যক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত নিজের মতেই চলিতেছেন; তৃতীয়তঃ, প্রধানামহিষী মহাদেবীর পুত্র ঋতুপর্ণ প্রায় তাহারই সমবয়স্ক অর্থাৎ অষ্টাদশবর্ষবয়স্ক তরুণ; তাহাকে দেখিলে মন্থরার মনটা আজকাল চঞ্চল হয়; সে কিন্তু ফিরিয়াও চাহে না; বিমাতার পদ্মপলাশলোচনের ভ্রূবিলাস উপেক্ষা করিয়া সে রাজ্যের পুঁথিপত্র লইয়া বসিয়া থাকে। কিছুক্ষণ পূর্বে মন্থরা তাহাকে উৎসব-উপলক্ষে, রাজার সহিত নিজগৃহে নৈশভোজনের জন্য নিমন্ত্রণ জানাইয়াছিল, সে স্পষ্ট বলিয়া দিয়াছে, অদ্য তাহার নিজ মাতৃগৃহে না যাইলেই নহে। চতুর্থতঃ, উচ্ছিখকে সে যে ভার দিয়াছে তাহার কতদূর কি হইল এখনও বুঝা যাইতেছে না। যদি আততায়ীরা রাজাকে হত্যা করে তাহা হইলেও বিপদ্, যদি তাহারা আক্রমণ করিবার পূর্বে বা পরে ধৃত হইয়া প্রাণভয়ে সমস্ত কথা প্রকাশ করিয়া দেয়, তাহা হইলে তো মন্থরার জীবন বিপন্ন হইবে। নৌকাবিহারের কথা রাজার স্মরণ না থাকিলেও মন্থরার স্মরণ ছিল, সে সপত্নী শাশ্বতীর মুখে সপ্তাহকাল পূর্বে ঐ প্রথার কথা শুনিয়াছিল এবং তজ্জন্য প্রস্তুত ছিল। কাশীরাজ যখন তাহার কক্ষে প্রবেশ করিয়া বলিলেন, “প্রিয়ে, আজ সন্ধ্যায় তোমাদের সকলকে লইয়া আমার নৌকাবিহারে যাইবার কথা। প্রতিবৎসর এইদিনে আমি রাজ্ঞীদের সঙ্গে লইয়া ছদ্মবেশে এইভাবে গঙ্গাবক্ষে আনন্দ করি, তুমি যদি অনুমতি দাও এবং সঙ্গিনী হও তবে সুখী হইব।”
মন্থরা হাসিয়া বলিল, “মহারাজ, আপনার সুখেই আমার সুখ। কিরূপ ছদ্মবেশ করিব বলুন, এখনই প্রস্তুত হইয়া আসিতেছি। অন্ধকারে এবং ছদ্মবেশে আজ কিছুক্ষণ অন্তঃপুরিকারা স্বাধীনতা উপভোগ করিবেন আশা করি। আমি রক্তবসনা গোপালিকা সাজিব, অলঙ্কার খুলিয়া পুষ্পাভরণ পরিব। আপনি গোপালক সাজিলে কেমন হয়, মহারাজ?”
রাজা সহাস্যে রাজ্ঞীর প্রস্তাব অনুমোদন করিলেন, মন্থরা নিজে গোয়ালিনী সাজিয়া রাজাকে স্বহস্তে গোপালকের বেশে সাজাইয়া দিল, কণ্ঠে কৃষ্ণসূত্রে রৌপ্যপদক এবং বাহুতে রক্তসূত্রে রৌপ্যকবচ বাঁধিয়া দিল, তাহার পর হস্তে পাঁচনীর সহিত একটি বংশী তুলিয়া দিল। বলিল, “আজ প্রাণ ভরিয়া আপনার বেণুবাদন শুনিব। প্রাসাদকক্ষে আপনার বংশীর মহিমা সম্যক্ প্রকাশিত হয় না, উদার গঙ্গাবক্ষে আজ তাহার অবাধ মুক্তরূপের পরিচয় পাইব। আজ সমস্ত বারাণসীর পুরনারী কুলত্যাগিনী না হয়, সমস্ত পুরবাসী নদীতে ঝাঁপ দিয়া না পড়ে। এইরূপ কোনও দুর্দৈব ঘটিলে মহারাজ যেন আমাকে দায়ী করিবেন না।”
মন্থরার চাটুবাদে রাজা কেবল মৃদু হাসিলেন।