ইসলাম দর্পণ

অষ্টম পরিচ্ছেদ

সুন্নতের উপকারিতা

সৈয়দ আবদুল আগফর

খৎনা বা ত্বচ্ছেদ প্রথার যৌক্তিকতা।

ত্বকচ্ছেদ বিশেষ উপকারক প্রথা। প্রথমতঃ, লিঙ্গাগ্র চর্ম্ম দ্বারা বেষ্টিত থাকায় তদভ্যন্তরে এক প্রকার শ্বেত বর্ণ মলিন পদার্থ জন্মিয়া থাকে। দ্বিতীয়তঃ চৰ্ম্মাভ্যন্তরে প্রস্রাব আটকিয়া থাকে, তাহাতে ভয়ানক দুর্গন্ধ হয়। তৃতীয়তঃ সঙ্গম কাৰ্য্যে চর্ম্ম বেষ্টিত লিঙ্গাগ্রে যারপর নাই কষ্টানুভব হইয়া থাকে। অতএব এবম্বিধ অসুবিধা নিবারণ মানসে মুসলমান ধৰ্ম্মে খৎনার বিধি প্রবর্ত্তিত হইয়াছে। যাহাদের মধ্যে খতনার বিধি প্রচলিত নাই, তাহারা তাদৃশ কষ্টানুভব করেন সন্দেহ নাই। বিশেষতঃ শারীরিক পবিত্রতা রক্ষার জন্য ইহা অতীব প্রয়োজনীয়।

বিবাহ।

মোহাম্মদীয় ধর্ম্ম প্রচলনের প্রারম্ভে আরবে বহুবিবাহ প্রচলিত ছিল, তাহা সীমাবদ্ধ করার জন্য এটা বিবাহের আদেশ প্রদত্ত হইয়াছে। মুসলমান ধর্ম্মে প্রথম এক বিবাহের কথা লিখিত আছে। যদি এক বিবাহে সন্তান উৎপাদন না হয়, তবে ২য় বিবাহ করিবে; যদি ২য় বিবাহে সন্তান উৎপন্ন না হয়, তবে তৃতীয় বিবাহ করিবে। যদি তৃতীয় বিবাহেও সন্তান উৎপন্ন হয়, তবে চতুর্থ বিবাহ করিবে। একত্রে ৪ বিবাহের অতিরিক্ত করার বিধান নাই। চতুর্থ বিবাহে সন্তান উৎপাদন না হইলে, বুঝিবে অদৃষ্টে সন্তান নাই। স্ত্রীর অনুমতি ব্যতীত অপর স্ত্রী বিবাহ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিবাহের পূর্ব্বে স্ত্রী পুরুষের পরস্পর দর্শন সিদ্ধ আছে। সঙ্গম কার্য্যের মূল্য স্বরূপ পুরুষ স্ত্রীকে মোহরানা নামক দেনা দিতে বাধ্য। মুসলমান ধৰ্ম্মে স্ত্রী শিক্ষার বিধান আছে। স্ত্রী সুশিক্ষিতা না হইলে ঐহিক পারত্রিক কার্য্যের উন্নতি হয় না। অশিক্ষিতা স্ত্রী আর বনের পাখী একই সমান। ফলতঃ স্ত্রী পুরুষ শিক্ষিত হইলে জীবনযাত্রা নির্ব্বাহ করা স্বর্গ সুখ তুল্য ব্যাপার। স্ত্রীকে ধর্ম্ম শিক্ষা না দিলে স্বামীকে পরলোকে তার দণ্ড ভোগ করিতে হইবে। আর স্ত্রীকে সর্ব্বতোভাবে পুরুষের আনুগত্য স্বীকার করিয়া থাকিতে হইবে।

তালাক (বিবাহ-বন্ধনচ্ছেদ)।

স্বভাবের অনৈক্য কি দম্পতি সঙ্গমাসক্ত হইলে, হিন্দু ধর্ম্মে পরস্পরের বিচ্ছেদের বিধান নাই। সুতরাং তাহারা পরস্পর পরম দুঃখে কালযাপন করিতে বাধ্য। কিন্তু মুসলমান ধৰ্ম্মে তজ্জন্য[১] বিবাহ বিচ্ছেদের বিধান থাকায় কতদূর সুবিধা হইয়াছে, তাহা বলিয়া শেষ করা যায় না। ফলতঃ দম্পতি পরম সুখে জীবন যাপন করিলে সংসারে এক প্রকার স্বর্গীয় সুখ অনুভূত হইয়া থাকে।

দায়ভাগ।

মুসলমান ধৰ্ম্মের দায়ভাগ কাহাকেও বঞ্চিত করে না। কিন্তু হিন্দু ধর্ম্মে পুত্র বর্ত্তমানে অপর সমুদয় উত্তরাধিকারীকে বঞ্চিত হইতে হয়। মুসলমান ধৰ্ম্মে পুত্রের অর্দ্ধাংশ কন্যা এবং স্ত্রী অষ্টমাংশ পাইবে। পুত্রের অর্দ্ধাংশ কন্যা পাওয়ার কারণ এই যে, কন্যা বিবাহিতা হইয়া স্বামীর বাড়ী চলিয়া যায় এবং স্বামীর দ্বারা প্রতিপালিত হয় এবং স্বামী বিলোপে জীবিকা নির্ব্বাহের কষ্ট হইবে, এই উদ্দেশ্যে বোধ হয় কন্যাকে পুত্রের অর্দ্ধাংশ দেওয়া হইয়াছে। আর স্বামী স্বত্বে স্ত্রীর অষ্টমাংশ পাওয়ায় উদ্দেশ্য এই যে, স্বামী পরলোক গমন করিলে স্ত্রীর ভরণ পোষণের কষ্ট হইবে, এই উদ্দেশে স্ত্রীকে অষ্টমাংশ দেওয়া হইয়াছে।

বিধবা বিবাহ।

হিন্দু ধর্ম্মে বিধবা বিবাহ প্রচলিত না থাকায়, তাহাদের মধ্যে পাপস্রোত কতদুর প্রবাহিত হইতেছে, তাহা বলা বাহুল্য। ১। বংশ বৃদ্ধির ন্যূনতা, ২। ভ্রূণ হত্যার প্রশ্রয়। ৩। রমণীকুলের আন্তরিক কষ্টানুভব। ৪। জীবিকা নির্ব্বাহের অন্তরায়। পরমেশ্বর বিধবা বিবাহের বিধান প্রবর্ত্তিত করিয়া, কতদুর সুবিধা করিয়া দিয়াছেন ও পাপের পথ বন্ধ করিয়াছেন এবং বংশ বৃদ্ধির উপায় করিয়াছেন, তাহা বলিয়া শেষ করা যায় না। আজীবন তাহার কৃতজ্ঞতা স্বীকার করিলেও সে উপকারের একাংশ পরিশোধ হয় না। ফলতঃ স্ত্রী বিয়োগে পুরুষ অপর নারীর পাণিগ্রহণ করিতে পারিবে, পক্ষান্তরে স্বামী বিয়োগে স্ত্রী অপর স্বামী গ্রহণ করিতে পারিবে না, ইহা কি কখনও যুক্তিসিদ্ধ হইতে পারে? এরূপ করা সম্পূর্ণ অবিচার সন্দেহ নাই। হিন্দু ধর্ম্মে স্বামী বিয়োগে স্ত্রী সহমরণ বিধানের বাধ্য হইবে, ইহা কতদূর সহৃদয়তার কাৰ্য্য একবার ভাবিয়া দেখা কর্ত্তব্য।

কবর দেওয়া।

মৃত ব্যক্তিকে হিন্দুরা দাহ করে এবং অগ্নি সংযোগে উহা স্ফীত হইয়া উঠিলে বংশখণ্ড দ্বারা খোঁচা মারিয়া মস্তক চূর্ণ বিচূর্ণ করে। আর যে ব্যক্তি মৃত ব্যক্তির নিকট আত্মীয়, সে প্রথমেই মুখে অগ্নি দেয়। এ সকল কার্য্য যে নিতান্ত নৃশংসজনক ও বীভৎস, তাহা কোন্ হৃদয়বান্ ব্যক্তি না স্বীকার করিবেন? এরূপ নৃশংস ব্যাপার দর্শনে লোকের মন নিতান্ত কঠোর হইয়া উঠে। দগ্ধীভূত মনুষের দুর্গন্ধময় ধূমপুঞ্জ জীবিত ব্যক্তির নাসিকা রন্ধ্রে প্রবিষ্ট হইলে, স্বাস্থ্য হানি হইয়া থাকে। মুসলমান ধর্ম্মে ঈদৃশ নৃশংস ব্যবহারের বিধান নাই। মুসলমানের মৃতদেহ ৩–৩৸৹ হাত মৃত্তিকার নীচে প্রোথিত করিয়া রাখে। হিন্দু ধর্ম্মে এক জাতীয় লোক অন্য জাতিকে অর্থাৎ ব্রাহ্মণ শূদ্রকে, এমন কি কুল শ্রেষ্ঠ ব্রাহ্মণ, নিম্ন শ্রেণীস্থ ব্রাহ্মণকে দাহ করিলে জাতিচ্যুত হইয়া থাকে। কিন্তু মুসলমান জাতি স্ব ধর্ম্মাবলম্বী নিম্ন শ্রেণীস্থ স্ব জাতীয় লোককে ও গোর দিতে শাস্ত্রানুসারে বাধ্য। না দিলে মহাপাতকী হইতে হয়।

অবরোধ-প্রথা।

মুসলমান দিগের মধ্যে অবরোধ-প্রথা প্রচলিত থাকায়, সামাজিক বিষয়ে কতদূর মঙ্গল সাধিত হইয়াছে, তাহা বলা বাহুল্য। হিন্দু ধর্ম্মের মধ্যে এই প্রথা প্রচলিত আছে বটে, কিন্তু মুসলমানদের মত এত আঁটাআঁটি নাই। যে টুকু আছে, তাহাও মুসলমানদিগের সংস্রবে হইয়াছে। অতি ঘনিষ্ট আত্মীয় ব্যতীত অপর আত্মীয়েরা যুবতী স্ত্রীকে দেখিতে পারে না। অবরোধ-প্রথা দ্বারা যে কেবল কুলকামিনীদিগের সতীত্ব রত্ন রক্ষিত হইতেছে, তাহা নহে—ব্যভিচারের পথ বন্ধ হইয়াছে এবং লজ্জাশীলতা অক্ষত রহিতেছে। কুকৰ্ম্ম নিবারণের ৭টী অন্তরায়। ১। ধর্ম্মভয়। ২। প্রলুব্ধ বিষয়ের অভাব। ৩। গুরু দণ্ডের ভয়। ৪। লজ্জাশীলতা। ৫। প্রলুব্ধ বিষয় পাওয়া স্বত্বেও মনঃপূত না হওয়া। ৬। স্থানের অভাব। ৭। রাজদণ্ড ভয়। অন্তঃপুরবাসিনী রমণীগণ যে অভিষ্পিত বিষয়ের অভাব প্রযুক্ত অধিকাংশ সময় পাপ হইতে বিমুক্ত রহিতেছেন, তাহাতে আর সন্দেহ নাই। নারী জাতি অপেক্ষা পুরুষ জাতি অধিকাংশ সময় কুকর্ম্মে লিপ্ত হয়। তাহার কারণ, পুরুষ জাতি অবরোধ প্রথার বশবর্ত্তী নহে; কাজেই লোভনীয় বস্তু হস্তগত হইতে বাধা জন্মে না। নারী জাতি যত লজ্জাশীলা, পুরুষ জাতি তত নহে। আবার নগরবাসী পুরুষ ও নারী অপেক্ষা গ্রাম্য পুরুষ ও নারী অধিক লজ্জাশীল এবং লজ্জাশীলা, তাহার কারণ বহু দর্শনাভাব। অতএব বহু দর্শন এবম্বিধ পাপের চাবি স্বরূপ। জগদীশ্বর অবরোধ প্রথার সৃষ্টি করিয়া, যে অন্তঃপুর বাসিনী রমণীকুলের পাপের পথ বন্ধ করিয়াছেন, তাহাতে কিছুমাত্র সন্দেহ নাই। ফলতঃ যদি অবরোধ-প্রথা প্রচলিত না থাকিত, তবে নারীগণ স্ব স্ব সহধর্ম্মীর প্রতি কখনও সন্তুষ্ট থাকিত না। বরং সর্ব্বদা ব্যভিচারে লিপ্ত হইত। স্বেচ্ছাচারিণী পাশ্চাত্য নারীগণের কাৰ্য্যকলাপ পৰ্য্যালোচনা করিলে, এ বিষয়ের প্রত্যক্ষ ফল উপলব্ধি হইতে পারে।[২]

প্রতিবাসীর প্রতি সদ্ব্যবহার।

মুসলমান ধর্ম্মাবলম্বিগণ প্রতিবাসী মুসলমানদিগের প্রতি সদয় ব্যবহার করিতে ধৰ্ম্মতঃ বাধ্য। প্রতিবাসী পীড়িত হইলে তাহাকে দেখিতে হইবে। আহারীয় ও পরিধেয় না থাকিলে তাহাকে তাহা যোগাইতে হইবে। দরিদ্র হইলে যথোচিত সাহায্য করিতে হইবে, মরিলে পর গোর কাফনের বন্দোবস্ত করিতে হইবে এবং তাহার জন্য ঈশ্বরের সমীপে পারলৌকিক মঙ্গলের প্রার্থনা করিতে হইবে। প্রতিবাসীর প্রতি অত্যাচার করিতে পারিবে না। প্রতিবাসী ভিন্ন ধর্ম্মাবলম্বী হইলেও তাহার সুখ দুঃখের সঙ্গী হইতে হইবে। ফলত সমাজ বন্ধনের নিমিত্ত এইরূপ নিয়ম যে কিরূপ মঙ্গলকর ও সুবিধা জনক, তাহার ইয়ত্তা করা যায় না।

জাকাৎ (বিশেষ দান)।

মুসলমান ধনীর ধনের চল্লিশ ভাগের এক ভাগ দীন দরিদ্র আত্মীয় এবং অনাত্মীয়দিগকে দান করিতে হইবে। আহার পোষাক গৃহ নির্ম্মাণ চিকিৎসা প্রভৃতি আবশ্যকীয় ব্যয় বাদে বৎসরান্তে যাহার নিকট ৫২৲ টাকা[৩] সঞ্চিত থাকিবে, ধর্ম্মমতে তাহাকে ধনী বলিয়া স্বীকার করা হইবে। আগে নির্ধন কুটুম্ব পরে দরিদ্র অনাত্মীয়দিগকে দিতে হইবে। দুরস্থ অপেক্ষা নিকটবর্ত্তীর দাওয়া অগ্রগণ্য। বস্তুতঃ দরিদ্র প্রতিপালনের উদ্দেশে দয়াময় সৰ্ব্বনিয়ন্তা মুসলমান ধৰ্ম্মে এইরূপ শাস্ত্রগত বিধান প্রচলিত করিয়া যে কতদুর সুবিধা করিয়াছেন, তাহা লিখিয়া শেষ করা যায় না।

টিকা ও মন্তব্য

  1. ১.↑
    যে ধৰ্ম্মে তালাকের বিধান নাই, বলা বাহুল্য যে, উক্ত ধৰ্ম্ম নৈসর্গিক নিয়মের প্রতিকূল। যেহেতু ঐশ্বরিক স্বভাবের উদ্দেশ্য এই যে, জগতে মানব জাতির বংশ বৃদ্ধি প্রাপ্ত হউক। স্ত্রী বর্জ্জন বিধান না থাকিলে, বংশ বৃদ্ধি সম্বন্ধে সমূহ বাধা উপস্থিত হইবে। যেহেতু অনেক স্ত্রী পুরুষের মধ্যে এক জনের দোষে সন্তান উৎপন্ন হয় না। পুরুষ যদি পুরুষত্ব বিহীন হয়, অথবা স্ত্রী পুরুষে সন্তান উৎপাদিকা যন্ত্রের সমম্বয় না থাকে, তাহা হইলে সন্তান উৎপাদন সম্বন্ধে সমূহ অন্তরায় উপস্থিত হয়। চিকিৎসা শাস্ত্রজ্ঞ ব্যক্তিগণ তাহা সহজে অনুভব করিতে পারেন। এমতাবস্থায় যদি স্ত্রী বর্জ্জনের বিধান প্রচলিত না থাকে, তাহা হইলে অনেক স্ত্রী পুরুষকে সন্তান-রত্ন লাভে বঞ্চিত থাকিতে হয়। স্ত্রীর মধ্যে যদি সন্তান জন্মাইবার উপাদান থাকে, আর পুরুষের দোষে তাহা না হয়, তাহা হইলে চিরকাল তাহাদের উভয়কে এক মহাকষ্টে কালযাপন করিতে হইবে। তাহা ছাড়া ঈশ্বরাভিপ্ৰায়ের (বংশ বৃদ্ধির) নিয়ম ভঙ্গ করা হয়। আর যদি পুরুষেয় মধ্যে উপযুক্ততা বিদ্যমান থাকে, এবং স্ত্রীর সন্তান উৎপাদক যন্ত্রের সঙ্গে পুরুষের যন্ত্রের সমানুপাত না থাকায় সন্তান জন্মিতেছে না, ইহাতে প্রকৃতির উদ্দেশ্য লঙ্গন করা হয়। স্ত্রী বর্জ্জনের বিধান থাকিলে এই সকল বিষয়ে কোন আপত্তি ও অসুবিধা থাকে না।
  2. ২.↑
    এই সকল ব্যতিত স্ত্রীলোকদিগকে অবরোধাবস্থায় না রাখিয়া স্বাধীনতা প্রদান করিলে, প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করা হয়। যেহেতু অর্থোপার্জ্জন এবং জীবিকা নির্ব্বাহের ভার স্বভাবতঃ পুরুষের প্রতি সমর্পিত। তাহারা কষ্টসহিষ্ণু, দৃঢ়কায় ও প্রবাস যাতনা সহ্য করিবার উপযুক্ত। সুতরাং তাহাদের প্রতি বহির্জ্জগতের কার্য্যভার সমর্পিত। নারী স্বভাবতঃ ভীরু, দুর্ব্বল, চঞ্চলা। এতদ্ব্যতীত তাহাদিগকে মাসে মাসে ঋতু-পদ্ধতি প্রতিপালন ও গর্ব্ভ ধারণ করিতে হয়। গর্ভৃব্ভপাত অন্তে মাসাধিক কাল পর্য্যন্ত অনবরত রক্তস্রাবের কষ্ট ভোগ করিতে হয়। সুতরাং তাহারা স্বভাবতঃ বহির্জ্জগতের ব্যবসা বাণিজ্য ও জীবিকা নির্ব্বাহের উপায়াবলম্বনের উপযুক্ত নহে। বরং গৃহজগতের কার্য্য নির্ব্বাহ, সন্তান সন্ততিদিগের লালন পালন ও আহারীয় সামগ্রীর আয়োজন করাই তাহাদের প্রকৃতিগত কর্ত্তব্য কাৰ্য্য। অতএব স্ত্রীলোকদিগকে বহির্জ্জগতের কাৰ্য্যে রাখিয়া অবরোধ-প্রথার অবমাননা করা স্বভাব ধর্ম্মের মস্তকে কুঠারাঘাত করা মাত্র।
  3. ৩.↑
    লেখকের যুগে ৫২৲ টাকা ছিল ৫২ তোলা রূপার সমপরিমাণ, কেননা এক তোলা রূপায় ছিল এক রৌপ্য টাকা।—তাহের আলমাহদী।