ইসলাম দর্পণ

সপ্তম পরিচ্ছেদ

সুদের অপকারিতা

সৈয়দ আবদুল আগফর

মুসলমান ধৰ্ম্মে সুরা পান এবং সুদ গ্রহণ নিষিদ্ধ। সুরা পান যে সর্ব্ব বিধ পাপের একমাত্র আকর এবং আর্থিক অনিষ্টের মুল, সর্ব্বোপরি বুদ্ধি বিনাশের প্রধানতম উপায়, তদ্বিষয়ে কাহারও মতদ্বৈধ নাই। সুতরাং এ সম্বন্ধে প্রমাণ প্রয়োগ করা নিরর্থক। এখন সুদ গ্রহণের অনিষ্টতা সম্বন্ধে লিখিত হইতেছে। সুদ গ্রহিতার অন্তঃকরণ অতি ক্ষুদ্র অথচ নীচাশয়তায় পরিপূর্ণ। পর-হিতৈষিতার ইচ্ছা তাহার আদৌ থাকে না। তাহা হইলে স্বার্থ রক্ষায় বাধা পড়ে। বিশেষতঃ পরকীয় সম্পত্তি কিরূপে ধ্বংস হইয়া তাহার হস্তগত হইবে, এই চিন্তা সর্ব্বক্ষণ তাহার অন্তঃকরণে জাগরুক থাকে। পরলোক গত সুপ্রসিদ্ধ ইংরেজ প্রফেসর মোক্ষমূলর নাইটিন সেঞ্চুরী নামক স্বনাম খ্যাত পত্রিকায় লিখিয়াছেন, কুপ্রবৃত্তির দমন এবং সুরাপান নিবারণ সম্বন্ধে মুসলমান ধৰ্ম্মে বিশেষ নিবারক বিধান রহিয়াছে। তিনি এতৎ সম্বন্ধে ইসলাম ধৰ্ম্মের যার পর নাই প্রশংসা করিয়াছেন। আর ও বলিয়াছেন যে, মুসলমান এবং খ্রীষ্টান ধর্ম্মের মধ্যে বিশেষ প্রভেদ নাই। বলিতে কি, উভয় ধর্ম্মকে এক ধৰ্ম্ম বলা যাইতে পারে। মুসলমান ধর্ম্মে বাণিজ্য করার বিধান রহিয়াছে। বাণিজ্যের দ্বারা বণিকের যে কেবল ধন ভাগ বৃদ্ধি হয় এমত নহে, দেশেরও প্রচুর উন্নতি সাধিত হয়। শিল্পকাৰ্য্য করারও বিধান আছে। চাকুরী করিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করাই উৎকৃষ্ট কাৰ্য্য। ফলতঃ বাণিজ্য এবং চাকুরী দ্বারা যে ধন উপার্জ্জন হয়, তাহাই শ্রেষ্ঠতম। এক মুসলমান অন্য মুসলমানকে বিনা স্বার্থে অনির্দ্দিষ্ট কালের জন্য টাকা ধার দিলে অসীম পুণ্যাধিকারী হয়। অপব্যয় করাকে কোরাণ শরিফে শয়তানের কাৰ্য্য বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। প্রত্যুত আবশ্যকীয় ও পরিমিত রূপ ব্যয় করার জন্য যথোচিত উপদেশ প্রদত্ত হইয়াছে। যাহারা এই আদেশ লঙ্ঘন করে, তাহারা সহসা দরিদ্র হইয়া পড়ে। ঈশ্বর সকল পাপ মোচন করিবেন বলিয়া আশা দিয়াছেন; কিন্তু পরকীয় দাবী কখনই ক্ষমা করিবেন না। আর সুদ গ্রহণ করা ও সুদ দেওয়া এক সমান পাপ[১]। পরিশ্রম করিয়া জীবিকা নির্ব্বাহ করার অন্য শাস্ত্রে প্রচুর উপদেশ রহিয়াছে। কৃপণতা মহা পাপ। কৃপণতা দ্বারা দেশের দরিদ্রতা বৃদ্ধি হয়। আলস্যকে যৎপরোনাস্তি দোষের কাৰ্য্য বলিয়া বর্ণিত হইয়াছে। এক মুহূর্ত্ত সময়কেও বৃথা ব্যয় করার জন্য প্রচুর রূপে দোষারোপ করা হইয়াছে। বিনা কারণে (অক্ষম না হইলে) ভিক্ষা করাকে মহাপাপ বলিয়া উক্ত হইয়াছে। প্রত্যেক বিষয়ে সুবিচার করার জন্য বহুল উপদেশ রহিয়াছে। ফলতঃ মুসলমানগণ যদি কোরাণের উপদেশ মতে কাৰ্য্য করিত, তবে কখনই তাহাদের ঈদৃশ দুরবস্থা ঘটিত না। ঋণ গ্রহণ করিয়া পুণ্য করাকে পাপের কাৰ্য্য বলিয়া ধর্ম্মশাস্ত্রে উক্ত হইয়াছে।

টিকা ও মন্তব্য

  1. ১.↑
    সুদ দিলে নিজের সম্পত্তি নষ্ট হয় এবং গ্রহণ করিলে অন্য মুসলমানের এ কারণ উভয়কেই অনিষ্ট জনক বলিয়া উক্ত হইয়াছে।