ইসলাম ধৰ্ম্ম সম্বন্ধে পারসী, উর্দ্দু, ও বঙ্গভাষায় রাশি রাশি পুস্তক মুদ্রিত হইয়াছে ও হইতেছে; কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিধর্ম্মীরা ইসলাম ধর্ম্মান্তগত বিধানগুলির অযথা ও অমূলকত্ব প্রতিপন্ন করার মানসে, যাদৃশ কূট তর্কের উদ্ভাবন ও নাস্তিক দলের পরিপুষ্টি করিতেছেন, উহার প্রতিবিধানোপযোগী কোন সর্ব্বাঙ্গ সুন্দর পুস্তক এ পর্য্যন্ত মুদ্রিত হয় নাই। ফলতঃ সূক্ষ্ম রূপে দেখিতে গেলে, উল্লিখিত পুস্তকগুলি ভাষান্তরে অনুবাদিত চৰ্ব্বিত চর্ব্বণ মাত্র বৈ নয়। আমি সেই অভাব পরিপূরণ করার মানসে সকল ধর্ম্মের সার সঙ্কলন করিয়া, তাহার প্রতিবাদ স্বরূপ এই ধৰ্ম্ম সার সংগ্রহ লিখিতে প্রবৃত্ত হইয়াছি। ইহা কোন ধৰ্ম্মশাস্ত্রের আশ্রয় গ্রহণ করিয়া লিখিত হয় নাই। কেবল যুক্তির উপর নির্ভর করিয়া, ইসলাম ধর্ম্মের প্রাধান্য, সারবত্তা এবং বিশ্ব ব্যাপকতা প্রদর্শন করাই এই পুস্তক প্রণয়নের একমাত্র উদ্দেশ্য। কোন ধৰ্ম্ম বিশেষের উপর আক্রমণ কি উহার নিন্দাবাদ ঘোষণা করা আমার অভিপ্রেত নহে। মাত্র স্বকীয় ধর্ম্মকে বিধর্ম্মীর সূক্ষ্ম বাণ হইতে অবিদ্ধ ও অক্ষত রাখাই অন্যতর উদ্দেশ্য। এখন সৰ্ব্বসাধারণ জনগণ সমীপে ইহা সাদরে গৃহীত হইলেই আমার শ্রম সফল জ্ঞান করিব।
অনেক দিন হইতে আমার এই পুস্তক খানা প্রণয়ন করার সঙ্কল্প ছিল, কিন্তু বলিতে হৃদয় বিদীর্ণ হইতেছে যে, আমার প্রাণ সদৃশী প্রিয়তমা বনিতা অকস্মাৎ অকালে পরলোক গমন করাতে, মনে সংযমের সম্পূর্ণ অভাব এবং নিদারুণ মানসিক পীড়া থাকা নিবন্ধন, যথাসময়ে গ্রন্থখানি প্রকাশ করিতে পারি নাই। অথচ এখন প্রকাশ করিয়াও ইহাকে আশানুরূপ সুসম্পন্ন করিতে পারিলাম না। অতএব সহৃদয় ধর্ম্মতত্ত্ববিদ মহোদয়গণের কৃপার উপর ভারার্পণ করলাম। যদি তাঁহারা কৃপা পুরঃসর ইহাকে সম্পূর্ণ করিয়া দেন তবে আমি দ্বিতীয় সংস্করণে পুনরায় পরিবর্ত্তন ও পরিবর্দ্ধন করিব এবং তাঁহাদের সমীপে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকিব।
আমি এই পুস্তকের কোন কোন অংশ মহাত্মা ইমাম গাজ্জালি (রহঃ) কৃত আহ্ ইয়া-অ্-অলুম, আওলাদ আলী খোন্দকার কৃত ধৰ্ম্ম-তত্ত্ব সার, মুন্শী মোহাম্মদ রেয়াজুদ্দীন আহমদ কৃত এসলাম-তত্ত্ব, রাজকুমার সেন কৃত Religion book, কালীশঙ্কর দাস কৃত ধৰ্ম্ম বিজ্ঞান বীজ, নগেন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় কৃত ধর্ম্ম জিজ্ঞাস্য, মুন্শী মোহাম্মদ মেহের উল্লা কৃত হিন্দু-ধৰ্ম্ম রহস্য ও খ্ৰীষ্টীয় ধর্ম্মের অসারতা এবং পণ্ডিত শিবনাথ শাস্ত্রী কৃত পরকাল নামক উপদেশ গ্রন্থ, কালীকৃষ্ণ ভট্টাচার্য্য কৃত জীবনাদর্শ এবং নানাবিধ সংবাদপত্রাদি হইতে উদ্ধৃত এবং ভাবার্থ সংগ্রহ করিয়াছি। এজন্য আমি উক্ত গ্রন্থকার ও সম্পাদকদিগের নিকট কৃতজ্ঞতাপাশে আবদ্ধ রহিলাম। অবশিষ্ট সমুদয় অংশ আমার কল্পনা প্রসূত।
পশ্চিম গাঁও, পো: লাকসাম; জেলা ত্রিপুরা।
সৈয়দ আবদুল আগফর