মিত্র কবি
গালি দিলে প্রতিফল, অবশ্য পাইবে।
যেই মতি, সেই মতি, কেন না হইবে॥
বুনোকবি
এ মতি আমার নাহি, ছিল এত কাল।
কুবিদ্যা কুমতি দিয়ে, ঘটালো জঞ্জাল॥
সুবিদ্যা সুমাতা ছেড়ে, এসে তার কাছে।
এই মতি এই গতি, শেষ ঘটিয়াছে॥
কুবিদ্যা
আমি তোর মাতা নহি, সে তোমার মাতা।
সে তোমার প্রিয় হলো, খেলি মোর মাতা॥
আমি চলে যাই দেখি, কে কি করে তোর।
এখন করিবি তুই, কোন্ মা’র জোর॥
কুবিদ্যা প্রস্থান ও বিদ্যা পুনরাগমন করিলেন
বিদ্যা
কেন বাছা তোরা সবে, কলহ করহ।
ভাই ভাই ভাবে সদা, ভাই ভাই রহ॥
সকলে একত্রে মোরে, আরাধনা কর।
সকলেই উপদেশ, কেন কবীশ্বর॥
সদাই সদ্ভাবে তবে, কেন না চলহ।
কি কারণে কর সবে, কেবল কলহ॥
মিত্র
তাই আমি কতবার, বুঝায় লিখেছি।
তার ফল গালাগালি, কেবল দেখেছি॥
অধিকারী
আমি ত দিই নে গালি, ওদের দুজনে।
শুধু কবিশ্রেষ্ঠ আমি, জেনে মনে মনে॥
করিলাম অপরূপ, স্বপন রচনা।
জগতেরে জানাবারে, নিজ গুণপনা॥
বিদ্যা
কিসে তুমি শ্রেষ্ঠ কবি, নিজ মনে লাগে।
কবিতা কাহাকে বলে, বল দেখি আগে॥
অধিকারী
যে জন মিলায় শব্দ, সুকোমল ভাষে।
সেই ত সুকবি বলি, আপনা প্রকাশে॥
বিদ্যা
তা নয় কবিতা বাছা, তা নয় তা নয়।
রামায়ণ পোড়ে তত, সুকবি না হয়॥
মুগ্ধ যদি, প্রকৃতির, মোহন বদন।
যেই মনোমত ভাবে, করে দরশন॥
সুখ দুখ রিপু রসে, হৃদয় মাঝার।
প্রকৃতির মোহসনে, জন্মে যে বিকার॥
যেই ভাবে সেই ভাব, স্বরূপ প্রকাশে।
যে ভাবে আপনা সনে, হৃদয় সন্তোষে॥
যথার্থ কবিতা সেই, সদা মোহময়।
শুধু রাম রাম বলা, কবিতা তো নয়॥
কিন্তু রামনাম তুমি, ছাড়িবে না দেখি।
বতে প করিয়ে কবি, কয় যত ঢেঁকি॥
সত্য কবিতায় রাখ, যতন বিশেষ।
কবি ঈশ্বরের ঠাঁই, লহ উপদেশ॥
–‘সংবাদ প্রভাকর’, ২৭ সেপ্টেম্বর, ১৮৫৩