বাল্যরচনা

বিষম “বিচিত্র নাটক”

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

অর্থাৎ
কবিদের মজ্‌লিশ এবং ঐ নাটক দর্শন

দলমল ঝলমল,  শত দীপ সচঞ্চল,
নিশাযোগে অট্টালিকা মাঝে।
সে আলোর কিবা নিভা, চন্দ্রিকার দিবা বিভা,
যেন তথা মিশিয়ে বিরাজে॥
কোটী দীপ কাঁচ মাঝে,  কোটী তারা সুবিরাজে,
জ্বলে যেন হিরাময় বাসে।
কতই কুসুম তায়,  ঝলমল শোভা পায়,
প্রভাময় সকলি প্রকাশে॥
ঝক্‌মক্ ঝলমল, আলো মাঝে সচঞ্চল,
নৃত্যকীর বসন ভূষণ।
ঝকমোকে বেশ ধরি, বসেছে বিরাজ করি,
কবীশ্বর পাশে কবিগণ॥
ধীরে ধীরে বীণা বাজে,  ধীরে ধীরে নিশি মাঝে,
মৃদু মৃদু গায় বামাস্বরে।
বিদ্যা আর অবিদ্যার, নৃত্য হবে দুজনার,
কে ছোট কে বড় জানিবারে॥

বিদ্যার নাচ
নাচে শশিমুখী, গজেশ গতি।
ললনা নলিতা, লাবণ্যবতী॥
কোমল কুসুম, কলিকা প্রায়।
কনক ভূষণ, কনক কায়॥
নিবিড় নিতম্ব, যৌবন ভার।
হাব ভাব হেলা, কত প্রকার॥
হেলিয়ে দুলিয়ে, নাচিছে ঘুরে।
ভূষা ঝলমল, কুসুম ঝুরে॥
প্রেমময় নীল, কোমল আঁখি।
স্থির রাখিয়াছে, ধরায় রাখি॥
বঙ্কিম নয়নে, বারেক চায়।
বিদ্যুৎ সমান, তখনি যায়॥
ঝাপ্টার মাঝে, বদন চাঁদ।
আশে পাশে ফেরে বসন ফাঁদ॥
হাব ভাব কত লাবণ্যে মাখা।
যেমন নাচিছে, কেমন বাঁকা॥
ফিরিয়ে ফিরিয়ে, ফিরিয়ে ফেরে।
চলিয়ে চলিয়ে, চলিয়ে ধীরে॥
কখন কি রূপে, কোথায় আছে।
সমীরে সরোজী, যেমন নাচে॥
কিরূপ কি ভাব, কেমন ছবি।
দেখে গেল গলে, যতেক কবি॥
মন্ত্র মুগ্ধ সবে, অচল আঁখি।
বিদ্যা চলে গেল, তাদের রাখি॥

অবিদ্যার নাচ
আইল অবিদ্যা তবে, দেখে কাঁপে বুক।
ঢেঙ্গা মাগী পেটমোটা, হাঁড়ি পানা মুখ॥
বরণে হাঁড়ির তলা, ঝক্ মেরে যায়।
দীর্ঘ চুল দীর্ঘ দাঁত, সাঁচিপান খায়॥
বসন মলিন অতি, পচা গন্ধ গায়।
তিনি ফের নাচিবেন, নমস্কার পায়॥
ধুপ্ ধাপ্ কোরে নাচে, মেঝে করে চুর॥
পাঁকেতে নাফান যেন, ব্যাঙ্গ বাহাদুর॥
কবিগণ হেসে মরে, বলে এ কি পাপ।
পলাতে পারিলে বাঁচি, বাপ্ বাপ্ বাপ্॥
অবিদ্যার প্রতি কবিদের রহস্যোক্তি
অবিদ্যা এতেক বিদ্যা, শিখিল কোথায়।
মোহিত হইয়া মোরা, জিজ্ঞাসি তোমায়॥
পরিচয় দাও ধনি, কেন এত বিদ্যা।
আ মরি সুন্দরি তুমি, কাহার অবিদ্যা॥