কবীশ্বর
ভাল বটে দেখি তব, কবিতার ছটা।
পরে গালি দিতে তবে, এত কেন ঘটা॥
কেহ হোলো অসভ্যের, বল সেনাপতি।
কেহ বা যুদ্ধের মন্ত্রী, নিজে সাধু অতি॥
পর দোষে দেও হাত, নিজ দোষ ঢাকি।
তুমি তো বোসেছ হোয়ে, নিজে জয়ঢাকী॥
বুনোকবি
না প্রভু নাহিক আমি, অসভ্যের কেহ।
পালিত হোয়েছে শুধু, তাঁর অন্নে দেহ॥
ভাল কোরে গালাগালি, দিতে যারে তারে।
আশ্রয় লয়েছি এসে, অসভ্য আগারে॥
কত লোক দিছে কত, মুখে চূণ কালি।
তবু যার তারে দিই, দোহাতিয়া গালি॥
কিন্তু অসভ্যের ছেলে, পাছে কেউ কয়।
পরকে বলেছি তাই, অসভ্য তনয়॥
চট্ট ভাবে দিছে গালি, আমি নহি পটু।
তাকেও বলেছি তায়, গোটা-দুই কটু॥
গেলের বাজারে নাম, লিখেছি রাখিয়া।
চট্ট মিত্র মোর গাল, গিয়াছে খাইয়া॥
কোন মূঢ় বলে ওরে, গালে আমি কম।
তারা জানে গাল মোর, শক্ত কি নরম॥
কিন্তু ভয় করে, পাছে, ফিরে গালি খাই।
হাতে পায় ধোরে মানা, করিয়াছি তাই॥
চট্ট
বুঝেছি চতুর বট, বুদ্ধি ঢের ঘটে।
গালি দিয়ে মুখ চাপা, যুক্তিমত বটে॥
আঙ্গুর হইল টক্, পেলে না নাগাল।
ভয় খেয়ে সভ্য হলে, লিখিবে না গাল॥
যেমন নবোঢ়া হয়ে, রতিরসে বালা।
দুদিন ঠেকিয়ে শিখে, তার যত জ্বালা॥
দিন দুই ঘরে গিয়ে, স্বামিঘর ছাড়ে।
যত আরো পতি সাধে, তত আরো বাড়ে॥
কোলেতে বসায় পতি, উঠে যায় কেঁদে।
সেই রঙ্গ দাদা ভাই, বসিয়াছে ফেঁদে।
ছোঁড়াও তেমন নয়, ধোরে এনে জোরে।
বুক পুরে মনোরথ, লবে পূর্ণ কোরে॥
বুনোকবি
তুমি যে হে বোলেছিলে, কটু কহিবারে।
আমি নাকি পারিনেকো, দেখ এই বারে॥
চট্ট
বটে বটে খুব গালি, মিত্রে দেছ ভাই।
“মলমূত্র” আহারাদি, কিছু বাকি নাই॥
এক জোর ঘায়ে সব, করিয়াছ শেষ।
পাগল বুনোর ঘায়ে, যাব কোন্ দেশ॥
যেমন জনেক মূর্খ, রমণীর স্থান।
অরসিক বোলে কত, হৈল অপমান॥
পিরীতে রমণী দিল, কাণ মূলে তার॥
মূর্খ বলে রসিকতা, শিখেছি এবার॥
কত রস শিখিয়াছি, এই দেখ রামা।
কসালো ছুঁড়ির ঘাড়ে, বারো ইঞ্চি ঝামা॥
সেই রঙ্গ হলো তব, শুন ভাই বুনো।
কবিত্বে বাড়ালে তুমি, গালি দিয়ে দুনো॥
কেবল তোমার মুখে, গালি না যুয়ায়।
কিন্তু হে একটি কথা, জিজ্ঞাসা তোমায়॥
কটুতে অপটু তুমি, বলিয়াছি বটে।
তুমি না জানিলে বলো, কাহার নিকটে॥
বুনোকবি
যে হোক্ না কেন তাতে, কি কার্য তোমার।
আগে বল দিছি গালি, কেমন এবার॥
তোমারে যা বলিয়াছি, বুঝেছ ত সব।
গোপনে বলেছি ঢের কর অনুভব॥
চট্ট
গাল দেছ দড় দড়, হলো বাহাদুরি বড়,
বাড়িবেক যশ অবিরত।
আমরা শুনিয়া তায়, এসেছি কৃতজ্ঞতায়,
সেলাম বাজাতে গোটাকত॥
“নীচ যদি উচ্চ ভাষে, সুবুদ্ধি উড়ায় হাসে”
সুবুদ্ধি মহৎ তুমিও ত।
তাই সব নমস্কার, ফিরিয়ে দিবে না আর,
সুবুদ্ধি মহৎ জন মত॥
কি সুবুদ্ধি সূক্ষ্ণ তব, লোকে করে অনুভব,
যার কি না যায় দেখা কিছু।
কেহ বলে কই কই, কেহ বলে, আছ ওই
কেহ বলে দড়ি বাঁধো পিছু॥[১]
হে উত্তরে মহল্লোক, একবার তেজে শোক,
সম্বোধিও নীচে মুখ ফুটে।
মনসুখে সব স’ব, কিছু মাত্র নাহি কব,
অঙ্গীকার করি করপুটে॥
টিকা ও মন্তব্য
- ১.↑অতি বুদ্ধি।