অবিদ্যা
“প্রবল প্রতাপশালী, অসভ্য রাজন।
সসাগরা ধরা নিজে, করিল শাসন॥
তাঁহার সখের মোরা, দুটি পাট রাণী।
প্রথমা অবিদ্যা আমি, দ্বিতীয় দুর্ব্বাণী॥”
পুত্র এক পেয়ে মেনে, পরাণে বেঁচেছি।
কিন্তু আগে বল সবে কেমন নেচেছি॥
কবিগণ
এমন সুন্দর নাচ, কভু দেখি নাই।
তাই এক অভিলাষ, করেছি সবাই॥
সুখী হব পুত্র তব, দেখিবারে পেলে।
কে জানে সে কতগুলি, তোমার তো ছেলে॥
কুবিদ্যা[১]
ছেলের গুণের কথা, কি কহিব আর।
রূপেতে আমারি মত, বাছা বাঁচা ভার॥
ভাল যাত্রা করে সে, যে, নিজে অধিকারি।
নাচিতে গাহিতে বাছা, স্বরূপ আমারি॥
কিন্তু আজ পারে কি না, নাহি যায় বলা।
কেবল ঝক্ড়া কোরে, ভাঙ্গিয়াছে গলা॥
সতিনী পালিত পুত্র, আছে এক ছোঁড়া।
সেই কালামুকো হলো, ঝক্ড়ার গোড়া॥
এক দিন তারে দেখে, আমার তনয়।
মাই ধোরে কোলে বোসে, মৃদু মৃদু কয়॥
“ওমা ওমা হেদে দেখ, দাদার এখন।
রাজ ভোগ খেয়ে দেহ, ফুলেছে কেমন॥
আমি কহিলাম উহা, বলো না রে আর।
ওপোড়া কপালে কাল, হয়েছে তোমার॥
সব কথা শুনিতে না, পেয়ে কবি ভালো।
মনে মনে কাল অর্থে করিলেন কালো।”
হইল বিষম মনে, অভিমান বোধ।
বারে বারে কটু বোলে, দেয় প্রতিশোধ॥
তাই তারে গালি দিল, কুমার আমার।
সে দ্বন্দ্বে মেরেছে হুড়ো, বুঝি কাকে আর॥
দুজনের সনে দ্বন্দ্ব, এ আর কেমন।
একা গাই দুই ষাঁড়, সে জ্বালা যেমন॥
কবি ঈশ্বর
সে তোমার পুত্র নয়, ভাল জানি আমি।
তা হইলে হবে কেন, বিদ্যাপথগামী॥
বিদ্যালয়ে থাকে ছেলে, বিদ্যা অনুরাগী।
তোর ছেলে হবে কেন, দূর বুড়ো মাগী॥
কুবিদ্যা
তুই চুপ্ কর্ মেনে, সে ছেলে আমার।
তাই পরিচয় দেছে, আপনি কুমার॥
সে কথা শুনেছে সবে, জগৎ সংসারে।
প্রভাকর সাক্ষ্য আছে, জিজ্ঞাসহ তারে॥
কবিগণ
যাহা হৌক্, ডাক তারে, শুনিব গো গান।
ছেলের মুখের গীত, অমৃত সমান॥
কুবিদ্যার ছেলে ডাকা
আয় যাদু আয় যাদু, আয় ঝপ কোরে।
মহা গুণি কবি যত, ডাকিতেছে তোরে॥
গু নি তে ডাকিতেছে তোরে, পাবি রে খাবার।
আয় আয় আয় বাবা যাদুরে আমার॥
গাহিবে সন্তোষ মনে, খাবে যাহা দিবে।
এতেকবিমল মুখে মিষ্টদে খাইবে॥[২]
আয় আয় ধনমণি, মুখ রাখ্ মার।
আমার হোস্ গো তুই, সর্ব্ব ধন সার॥
বাল্যরচনা
বিষম “বিচিত্র নাটক”
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়