ছেলে আসিতে আসিতে বলিতেছে
মাকো তোর চাবালেরে, ডাক্ দিলি ক্যান্।
যাতে নার্লাম মাগো, হাঁ–
মিত্র কবি
–Walk up man.
কবীশ্বর
কও রে কি নাম তোর, বাস কি নগর।
ছেলে
নাম বুনো অধিকারী, বেণাবনে গর্॥
মিত্র কবি
মাপ কর রাখ বাপু, দুটো দিশি বোলে।
বল্ দেখি কিসে আলো, উপরেতে ঝোলে॥
বুনো
চাতালেতে ওডা বুঝি, ডোমেতে বা বেচে।
ক্যাঁচের দোচনাওলা, জোলাইয়া দেচে॥
চট্ট
বল দেখি সাদা কেন, ঘরের দেয়াল।
মহা ব্যাধি হোয়েছে কি, তোলা গেছে ছাল?
বুনো
বুজি বা এ ভারে, পারে দোষে চিতাইচে
কি কাওয়ারে দৈবাৎ, কারে হাগাইচে॥[১]
মিত্র
চট্ট এর ভাষা এ যে, বোঝা হোলো দায়
অনুবাদ কোরে বল, তবে বোঝা যায়॥[২]
কুবিদ্যা
ভেকো হোলে কেন বাছা, কথা কও দড়।
মিছে কেন খাটো হও, জোয়ে হও বড়॥
দাঁড়ায়ে কি কর, গালি দেও যথোচিত।
না হয় গানেতে কর, সবারে মোহিত॥
বুনোর গীত
রাগিণী ঝিঝিট্। তাল খেম্টা
সব সন্ন্যাসী এবার। হব সন্ন্যাসী এবার।
কোণের ভিতর শুক্নো নাড়ী, সইতে নারি আর।
তোর্ সনে লো পিরীত করে,
শিবের পূজা গেল ঘুরে,
অধিকারী নামটি ধোরে, ঘণ্টা নাড়া সার॥
কেমন গেয়েছি সবে, কও তো বিশেষ।
সব কবি
বেশ বেশ বেশ বুনো, বেশ বেশ বেশ॥
চট্ট
বেশ ভাই ফিরে গাও, আর একবার।
শুনিয়া জুড়াই ফের, শ্রবণের দ্বার॥
অথবা শুনেছি তুমি, কবি মহাগুণী।
একটি কবিতা ভাল পড় দেখি শুনি॥
স্বপ্ন বা ধর্ম্মের ক্লেশ, ফেলে দাও জলে।
কহ তো প্রেমের গুণ, কবিতা কৌশলে॥
বুনোর কবিতা পাঠ
প্রেম সবে কর সার, প্রেমময় এ সংসার,
আকাশ, পাতাল মহীতলে।
সত্য ত্রেতা দ্বাপরাদি প্রগাঢ় প্রণয়ে বাঁধি,
ভাসায়েছে সুখেতে সকলে॥
প্রেম তরে কত লোক, হয়ে গেল পরলোক,
শিবের হইল ধ্যান ভঙ্গ।
সমুদ্র মন্থন কালে, মোহিনীর প্রেমজালে,
গিরীশের ঘটিল কি রঙ্গ॥
শ্রীরাম প্রেমের তরে, কতই রোদন করে,
দেশে দেশে উদ্দেশিয়া নারী।
জ্বালা পায় কতবার, শেষেতে সে প্রেমে তার,
হইল বানর অধিকারী॥
দ্বারকানাথ গো আর, গোপাল মাঝেতে তার,
মন বাঁধা গরু রাধিকার।
দ্বারকায় লাজ খেয়ে, বরিল বানরী মেয়ে,
দাস জাম্বুবানের কথায়॥
যিনি নিজে রামেশ্বর, রসিকের মণি।
ছিল তাঁর কত আর, রসিকা রমণী॥
রুক্মিণী রূপসী রামা, সত্যভামা সতী।
দ্বারকা স্বর্গের সম, ছিল শোভাবতী॥
সে শোভা এখন কোথা, কোথা সেই হরি।
মোহিনী মণ্ডল কোথা, সব গেছে মরি॥
যত ছার পশু পক্ষী, বাসা করে তায়।
শৃগাল কুক্কুরে হাগে, দ্বারকার গায়॥
তাইতে হইল মোর, কবিতার শেষ।
সব কবি
বেশ বেশ বেশ বুনো, বেশ বেশ বেশ॥
বাল্যরচনা
বিষম “বিচিত্র নাটক”
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়