‘বিনা চিকিচ্ছেয় চিৎপটাং, বিনা চিকিচ্ছেয় চিৎপটাং’ বলতে-বলতে একটা শালিখ মল্লিকদের জামরুলগাছের নিচে পায়চারি করছিল। সেই গাছের ডালে তিনটে পাতা সেলাই করে তার মধ্যে একজোড়া টুনটুনি তাদের বাচ্চা-কাচ্চা নিয়ে বাস করতো।
বাচ্চা দুটো খেয়ে-দেয়ে দুপুরবেলা দিব্যি ঘুমোচ্ছিল, আর তাদের মা-বাবা বসে-বসে ভাবছিল রোদটা একটু পড়লে আজ তারা কোন বনে গিয়ে পোকামাকড় ধরবে। এমন সময় শালিখের কথা কানে যেতেই মা-পাখিটা বললো, ‘কে বটেন, কে বটেন? সন্টু কি? সন্টু কি?’
অন্য টুনটুনিটার সবে একটা হাই উঠেছিল, হাই তুলতে-তুলতে বললো, ‘চিৎপটাং, তার কারণটা কী? কারণটা কী?’
ঠিক সেই সময় শালিখটা আবার বলে উঠলো, ‘বিনা চিকিচ্ছেয় চিৎপটাং!’
তখন টুনটুনিটা ঘরের বাইরে এসে শালিখটাকে দেখে বললো, ‘কে এটা? চিনটু না?’
শালিখ ওপরের দিকে তাকিয়ে টুনটুনিকে দু-তিনবার পিটপিট করে দেখলো। তারপর বললো, ‘চিনটু না, চিনটুর ছোট ঠাকুমা। চিনটু চিৎপটাং। বিনা চিকিচ্ছেয় চিৎপটাং!’
‘কারণটা কী? কারণটা কী?’
পাশেই কালোজাম গাছের ডাল থেকে একটা পাখি আপন মনেই বললো, ‘কারণ জানে কোন জনা?’
একটা কাক উড়ে যাচ্ছিল। কে চিৎপটাং, কী ব্যাপার- কিছু না বুঝে বলে উঠলো, ‘আহা! আহা!’