স্টেশন পর্যন্তই এসেছিলাম; ফেরবার গাড়ি প্রায় দু’ঘণ্টা পরে, এতক্ষণ বসে বসে করা যায় কি?
এখানে থেকে গঙ্গা বেশী দূর হওয়া উচিত নয়; একটা কলও রয়েছে, ঐদিকটাই না হয় ঘুরে আসা যাক একবার। স্টেশনেরই একটা খালাসিকে প্রশ্ন করতে বললে মাইল দুয়েকের মধ্যে। হেঁটে যাবার সময় নেই, গরজও নেই এমন কিছু, এদিকে রিকশা যা পাঁচ-সাতখানা ছিল, গাড়ি আসবার সঙ্গে সঙ্গে যাত্রী নিয়ে গেছে বেরিয়ে। ও খেয়ালই ছেড়ে দিয়ে একটা সিগারেট বের করে কেস্টার ওপর আস্তে আস্তে ঠুকছি, এমন সময় ক্রিং ক্রিং করে কয়েকটা ঘন ঘন শব্দ হ’ল, এবং আমি বেরুতে বেরুতে একটা রিকশা এসে স্টেশনের প্যাসেঞ্জার শেডের বাইরে দাঁড়াল।
ড্রাইভার একটা সতের-আঠার বছরের ছেলে। কালো, টলটলে চেহারা, মাথায় বাবরি চুল, চোখ দুটো টানা-টানা, সব মিলিয়ে এ কাজের সঙ্গে খাপ খায় না। একটু যেন তাড়াহুড়ো করেই এসেছে, যার জন্য ওর পুরন্ত মুখটা তামাটে হয়ে উঠেছে, চোখে একটা ব্যস্ত ভাব।…বেচারীর দেরি হয়ে গেছে, গাড়ির চান্স্টা গেছে নষ্ট হয়ে।
আমি বাইরে আসতে ওর মুখটা একটু দীপ্ত হয়ে উঠল, আমার কিছু বলবার আগেই প্রশ্ন করলে-—“রিক্শা চাই বাবু?”
এমনই একটা আকুল প্রত্যাশা যে দরকার না হলেও বোধ হয় করতাম ভাড়া। বললাম—“চাই, কলের দিকে যাব।” ওর মুখের দীপ্তিটা কে যেন একটা ফুৎকারে দিলে নিবিয়ে। ফ্যালফ্যাল করে একটু চেয়ে থেকে বললে—“মেলায় যাবেন না বাবু? রাখালরাজের মেলা…”
প্রস্তাবটা অদ্ভুত বলেই একটু হাসিমুখে চেয়েছিলাম, ছেলেটা বলে যেতে লাগল —“হেঁ বাবু, রাখালরাজের মেলা—এ তল্লাটে সে নাম করা মেলা—আপনি বোধ হয় কোলকেতার নোক তাই জানে না, রাখালরাজের মেলার মতন মেলা এ তল্লাটে কেউ দেখাক দিকিন একটা—কেন, রথও হয়, ওর নাম কি শেতলাও হয়, ওলাইচণ্ডীও হয়, কিন্তু দাঁড়াক দিকি রাখালরাজের মেলার সামনে।…হেঁ বাবু চলুন—বসুন এসে…”
একটু তামাসা দেখবার জন্যে বললাম—“আমার কাজ যে কলে।”
“তা হোক বাবু…কল ত পালাচ্ছে নি…”
“বন্ধ হয়ে যাবে ত—হাজার দুয়েক টাকা লোকসান…”
আশায় মুখটা একটু রেঙে উঠেছিল, আবার গেল নিষ্প্রভ হয়ে, একটুখানি নৈরাশ্যের হাসি রইল শুধু এক কোণে লেগে। প্রশ্ন করলাম—“কতটা দূর এখান থেকে?”
“আজ্ঞে, কোশটাক; এর বেশী হয় আমায় দু’ঘা দেবেন।”
“মিলের দিকে?”
“আজ্ঞে না, মিলটা হ’ল পূবে আর রাখালরাজা হ’ল—আপনার গিয়ে…”
আড়ে একবার উত্তরের দিকে চেয়ে একটু অপ্রতিভ হয়ে বলে—“আজ্ঞে আসুন দয়া করে—মেলা আবার সকাল সকাল ভেঙে যায় কিনা—এতদূর থেকে এসে যদি ভালো করে দেখতেই না পেলেন…”
হাসি পাচ্ছে; মেলা দেখতে আসি নি বটে, তবে এমন একটি চরিত্রের সাক্ষাৎ পাওয়াও কম কথা নয়। কিন্তু যেমন আহ্লাদে-আহ্লাদে দেখছি, তাতে বিদেশ-বিভূঁয়ে ওর হাতে নিজেরে ছেড়ে দিতেও মনটা খুঁৎখুঁৎ করছে; আবার বললাম —“ঠিক বলছিস ত কোশখানেক? ঘণ্টা দুয়েক পরেই আমার গাড়ি, পৌঁছে দিতে পারবি ত স্টেশন?”
“আজ্ঞে ঐ ত বলনু—না পারি দু’ঘা দেবেন।”
“তাতে গাড়ি পাব?”
আবার একটু অপ্রতিভ ভাবে হাসল, তারপর তাগিদ দেবার জন্যে রিক্শাটা একটু চালিয়ে, ঘণ্টিটা বাজিয়ে আব্দারের ভঙ্গিতেই হেসে বললে—“বসুন এসে, বসুন;—বিলম্ব হয়ে যাচ্ছে ত?—ত্যাখন আবার বলবেন—দেখেছ? রেমো ব্যাটা দিলে ফেল করিয়ে গাড়িটা।”
“ভাড়া?”
“এক টাকা—এক পিঠের রেট বাবু—কম করলে ইউনিন্ থেকে নাম কেটে দেবে।”
“যেতে আসতে দেড় টাকা দোব।”
ঘাড় বেঁকিয়ে হাসলে।
“তাই দেবেন—তবে রেট ঐ, মিথ্যে বলিনি। আপনি তাই দেবেন, তবে কথাটা গোপনীয় রইল বাবু।…উঠে বসুন।…বামুন ত?—পেন্নাম হই।”
বললাম—“হ্যাঁ, একটা কথা—মেলা যদি তেমন না হয়ত একটা পয়সাও দোব না কিন্তু।”
এর উত্তরটা পেলাম যখন বেশ খানিকটা এগিয়ে গেছি।
—“রাখালরাজের মেলা বড় মেলাই, কিন্তু তা বলে কি আর রায়েদের রথযাত্রার মতন হতে পারে বাবু? তা যে যতই বলুক না কেন। রথযাত্রা হ’ল আপনার বছরে একবার আর রাখালরাজ হ’ল মাসে মাসে, বারো মাসে আপনার গিয়ে বারোটা। …আম সেই জষ্টি-আষাঢ়ে হবে একবার—তার সোয়াদ দেখুন, তার জলুস দেখুন আর পেয়ারা ফলছে ত ফলছেই—কখনও এক হতে পারে বাবু?—আপনিই একটু বিবেচনা করে কন না…”
রাগ হবারই কথা, কিন্তু সব তঞ্চকতা, সব জিদ কুতর্ক আর স্বার্থপরতার ওপরে ওর চেহারাটিতে এমন একটা মুক্ত সারল্য রয়েছে যে কোন মতেই টেনে আনতে পারছি না রাগটাকে। দু’ধারের উন্মুক্ত মাঠের মাঝখান দিয়ে রাস্তা, ধানের সবুজ দোল লেগেছে, ওপরে আকাশের সমস্তটাই যায় দেখা, মনটাও কেমন আমার ছোটখাটো প্রবঞ্চনার ওপরে উঠে গিয়ে থাকবে। গল্প জুড়ে দিলাম। রামকানাইয়েব বাড়ি মিল এরিয়ার দিকেই, অতটা দূরে নয়, স্টেশন থেকে মাইল খানেকের মধ্যে। জাতিতে বৈরাগী। বাপ, মা, বুড়ো-ঠাকুরদা, দুটি বোন, নিজে। একটি বোনের বিয়ে হয়ে গেছে, একটির হয় নি। ধেনো জমি আছে কিছু। আর রোজগার এই রিক্শা টানা, এতেও দিন গেলে, দুটো টাকা আসে। রিকশাটা চালায় বাপই; তবে রামকানাইয়েরও রপ্ত আছে; বাপের কিছু হ’ল, নিজেই চালিয়ে নিলে।
নিজের সম্বন্ধে প্রশ্ন করতে কানাই একটু হেসে হেসে যেন এড়িয়েই যেতে লাগল। বোঝা গেল, গেরস্ত ঘরের একমাত্র ছেলে, বাপের অতটা নাই হোক, মা আর ঠাকুরদাদার একটু বেশী পেয়ারের। চেহারাটিও সাক্ষী দেয়।
বিয়ের কথাও জিগ্যেস করলাম—“হয়েছে?”
ফিরে ফিরে মুখের দিকে চেয়ে গল্প করছিল, আর চাইলে না, মাথাটা নীচু করে নিলে।
শরৎ-মধ্যাহ্নে এই মুক্ত প্রাঙ্গণের সঙ্গে চমৎকার মিলে যাচ্ছে বলেই থেকে থেকে কয়েকবারই প্রশ্নটা করলাম। ও যেন একটি চিরন্তন কিশোর, ওকে নিয়েই যেন এই চিরন্তন রস-বার্তা, কোন কুণ্ঠাই এল না আমার কণ্ঠে। বিয়ে ওর হয়েছে। কিছু বললে না বটে, তবে ওর কৈশোর-লজ্জার মধ্যে দিয়ে, আর প্রতি প্রশ্নের সঙ্গেই ওর প্যাড্ল চালাবার উৎসাহের মধ্যে দিয়ে উত্তরটা আপনি যেন ছেঁকে বেরিয়ে আসতে লাগল।
এর পর কিন্তু আমি আর এতটা নির্বিকার থাকতে পারলাম না। ওর একটা বদ অভ্যাস দেখে বরং বেশ একটু বিরক্তই হলাম।
পথটা ক্রোশ দেড়েকের কম নয়। এতক্ষণ লোক চলাচল একটু কম ছিল বলেই বোধ হয় লক্ষ্য করিনি, বাঁদিক থেকে একটা নতুন রাস্তা এসে পড়তে দেখলাম। হতভাগার কমবয়সী মেয়েছেলে যেতে দেখলে একবার মাথা ঘুরিয়ে দেখে নেবার রোগ আছে। এমনি বিরক্তিকর, তার ওপর রাস্তা-খারাপ, লোকের ভিড়, রিকশা উল্টে দিয়ে, কি কারুর ঘাড়ে ফেলে একটা দুর্ঘটনাও ঘটাতে কতক্ষণ? ঠিক সোজাসুজি বলতেও কেমন বাধ-বাধ ঠেকে, তবু কয়েকবার টুকলাম, বিশেষ কোন ফল হ’ল বলে মনে হ’ল না। তবে তখন প্রায় কাছাকাছি এসে পড়েছি, খানিক পরেই মেলার মধ্যে গিয়ে পড়লাম।
খুব বড় না হলেও নেহাৎ নিন্দের নয়। একটি ছোট খালই হোক বা নদীই হোক, তার কিনারায় মেলাটা বসে। একটি বৈষ্ণব বাবাজীর আখড়া আছে, দু’টি কদমগাছ, তার নিচে গোলপাতায় ছাওয়া ইটের দেয়ালের একটা ঘর, তাইতেই যুগল-বিগ্রহ। জায়গাটা বেশ প্রশস্ত, মাঝে মাঝে গাছপালা, যত্ন করেই লাগানো লতাগুল্ম, সবগুলিই বর্ষার রসে পুষ্ট; সব মিলিয়ে চমৎকার একটি বৈষ্ণব ভাব রয়েছে জায়গাটাতে। কলের ঘেঁষ আর চিমনি থেকে রক্ষা করে রাখালরাজ যে এইখানে টেনে এনেছেন তার জন্যে তাঁকে মনে মনে প্রণাম করলাম।
কিন্তু যাকে দিয়ে এনেছেন টানিয়ে তার ওপর রাগটা আরও গেল বেড়েই। খানিকটা ভিতরের দিকে নিয়ে গিয়ে একজায়গায় রিক্শাটা দাঁড় করিয়ে নামল নিজে। একটু ব্যস্ত-যেন কিসের দেরি হয়ে গেছে, কি হারিয়ে যাচ্ছে, কি পালিয়ে যাচ্ছে। একটু অপ্রতিভভাবে হেসে, হাত কচলে বললে—“এই মেলা বাবু, আমি একটু আসছি—এই এলাম বলে—আপনি এখানেই থাকবেন—রিক্শার ওপর দিব্যি বসে…”
বললাম—“আমি রিক্শা আগলাব তোমার, আর তুমি টহল দিয়ে বেড়াবে? বলতে লজ্জা করল না?”
একটা দিকে ঘাড় ফিরিয়ে হঠাৎ চেয়ে নিলে, তারপর সেই ভাবেই বললে—“আজ্ঞে না, সেকথা নয়, আপনিও দেখুন না, রিক্শা নিয়ে কে যাবে—হক্কের ধন, নম্বর দেওয়া আর ইয়ে বাবু, ভাড়াটা যদি দিয়ে দেন—দু’পিঠেরই…”
“এক পিঠেরও পাবি না। ঠিক দশ মিনিট সময় দিলাম, যদি এর মধ্যে ফিরে না আসিস ত তোকে পুলিশের হাতে দোব, তোর লাইসেন্স কাড়িয়ে দোব। যা, ঠিক ঘড়ি ধরে দশ মিনিট—ওর মধ্যেই ফিরে আসবি। মস্ত বড় মেলা! ধাপ্পাবাজ!”
ঘাড় ফিরিয়ে হেসেই চলে গেল।
ওদিককার রাগ এদিক’কার অনুরাগের মধ্যে কখন গেছে ডুবে, জানি না। বড় মধুর লাগছিল, আমার গাড়ি যখন ওদিকে বেরিয়ে গেছে তখনও আমি ঘুরেই বেড়াচ্ছি এখানে—ওখানে। ঘণ্টা দেড়েক পর আর একটা যে গাড়ি তাইতে যাব।
বিকেল গড়িয়ে এবার সন্ধ্যা হবে, মেলা পাতলা হতে আরম্ভ হয়েছে।
গোষ্ট ত ভাঙল, কিন্তু কোথায় রাখালরাজ?…মা যশোদার মতোই কেমন একটা কান্না ঠেলে উঠছে চোখে—একটা অজানা আশঙ্কা…ঘুরে-ফিরে বেড়াচ্ছি, কাকে যেন খুঁজে খুঁজে। অন্যমনস্ক ভাবেই কণ্ঠে একটা ব্যাকুল পুরবী গুণগুণিয়ে উঠছে—ঢুঁর ঢুঁর গ্যাও হার হার…খুঁজে খুঁজে যাচ্ছি হেরে, যাচ্ছি সারা হয়ে, হে রাখালরাজ, এই কি সময় তোমার—যমুনা পুলিনের মালতী কুঞ্জে…
নিরুদ্দেশ ভাবেই ঘুরতে ঘুরতে আখড়ার পেছনদিকটা একটা জায়গায় এসে হঠাৎ থমকে দাঁড়াতে হ’ল, কণ্ঠের গুণগুণানিও গেল থেমে আমার।
সেই হতভাগাটা, তখন পর্যন্ত ত তাই আমার দৃষ্টিতে। একলা নয়। একটা ছোট চালা, আখড়ার সব ঘরগুলার মতই একটু লতায়-পাতায় ঢাকা, তবে এমন কিছু প্রচ্ছন্ন নয়, যদিও একটু বোধ হয় একটেরের। তারই ধারটিতে একটা খুঁটিতে ঠেস দিয়ে বসে, পাশেই একটি মেয়ে, একটা হাতে ভর দিয়ে পা ছড়িয়ে বসে। বয়স প্রায় ঐ রকমই, দু’এক বছর কম হতে পারে। আমি গিয়ে পড়লাম মেয়েটার খিলখিল করে হেসে ওঠার মধ্যে।
আপাদমস্তক গলে গেল, কিন্তু বলার কি আছে ভেবে না পেয়ে শুধু প্রশ্ন করলাম—“দশ মিনিট তোর এখনও নি, না?”
সেই একটু অপ্রতিভ হাসি নিয়ে উঠে পড়ল, একটু দাঁড়িয়েই রইল, তারপর মেয়েটার দিকে চেয়ে হুকুম করলে—“গড় কর এনাকে। বামুন।”
সরে দাঁড়াতে যাচ্ছিলাম, সেইভাবেই হেসে বললে—“আজ্ঞে, পরিবার আমার।”
কথা তখনও মুখ দিয়ে বেরুচ্ছে না, চেয়েই আছি, বলে চলল—“এই যে নতুন রাস্তাটা এসে পড়ল, উইদিকে ওদের ঘর—সরখালি।…কুল করা নিয়ে যে এর বাবায় আর আমার ঠাকুরদায় এইরকম…”
দু’হাতের দুটো তর্জনীতে লাগিয়ে আড়াআড়ির ভাবটা দেখাচ্ছে, এমন সময় আখড়ার ওদিক থেকে ললিতা-সখী এসে উপস্থিত হ’ল।
তা ভিন্ন আর কি নাম দোব?
বেশ সপ্রতিভ, বৈরাগীরা সাধারণতঃ যেমন হয়ই। বছর ত্রিশেক বয়স, কপালে উলকি, নাকে রসকলি। এসে ছেলেটাকে প্রশ্ন করলে—“ইনি কে গো কুটুম?”
পরিচয়টা শুনে একটা নমস্কার করলে হাত তুলে। ছেলেটার শেষের কথাগুলো বোধ হয় শুনেছিল, একটু হেসে বললে—“দেখুন না গেরো। আমার বুন, খুড়তুতো, তা কাকার সঙ্গে আর ওর ঠাকুরদাদার সঙ্গে কুল করা নিয়ে রেষারেষি—তা সে এমন যে, সে যেন আর এজন্মে মিটবে না, মিটবে, তবে বুড়ো ম’লে… কুটুম চটছে ত আর কি করব?—ওনার বাপ ত ত্যাত খারাপ, বলছি না…এই অবস্থা। আমারই ভোগান্তি, মাসে এই একবারটি করে নিয়ে আসি ওকে, বলি চল, রাখালরাজের পায়ে মাথা কুটবি চ…ও কুটুম, ওদিককার কাহিনীটাও দোব নাকি ফাঁস করে?”
মুখটা ঘুরিয়ে মুখে মুঠো চেপে খিলখিল করে হেসে উঠল।
ওদিকে, বড় চালাটার মধ্যে টুং টাং কি শব্দ উঠেছে, নিশ্চয় রাখালরাজের আরতির আয়োজন হচ্ছে। আজ ওটা দেখে না গেলে যেন কোথায় মস্ত বড় একটা ফাঁক থেকে যাবে বলে মনে হচ্ছে। আমার ফেরবার গাড়ি তাহলে হ’ল আরও এক ঘণ্টা পরে, সাতটা তিরিশে।