শান্টিনিটিন

অমরেন্দ্র চক্রবর্তী

শান্তিনিকেতনকে পাখিরা কী বলে জানো তো? ‘শান্টিনিটিন।’ শান্তিনিকেতনের একটা বাগানে দেখলুম একটা পাখি একা-একা গাছের ডালে বসে আপন মনে দিব্যি মুখ তুলে গাইছে, ‘আমানডের শান্টিনিটিন, আমানডের শান্টিনিটিন।’

‘আমাদের শান্তিনিকেতন’ গানটার বাকি কথাগুলো জানে না তো, ঘুরে-ফিরে ওই একটা লাইনই মশগুল হয়ে গেয়ে চলেছে।

বুড়োমতন একটা পাখি, বৃষ্টিতে ভিজে তার একটু জ্বর হয়েছিল, কাছেই তার আমড়াগাছের বাসায় শুয়ে ছিল, বার-বার একই গান শুনে অতি কষ্টে বাইরে এসে বললো, ‘গীতাঞ্জলি গা না, গীতাঞ্জলি গা।’

গায়ক পাখিটা প্রথমে শুনতেই পায়নি, গীতাঞ্জলির কথাটা আরেকবার বলতে সে গান থামিয়ে বলে উঠলো, ‘জানি নাকি? জানি না। জানি নাকি?’

বুড়ো পাখিটা বললো, ‘গীতিমাল্য গা না, গীতিমাল্য গা।’

সেই পাখিটা গলা তুলে আবার ‘আমানডের শান্টিনিটিন’ ধরতে যাচ্ছিল। বললো, ‘জানি নাকি? জানি না। জানি নাকি?’

জ্বরে ভুগে মানুষের মতন পাখিরাও একটু জেদী হয়ে যায়। বুড়ো পাখিটা নাছোড়বান্দার মতন বললো, ‘গীতালিটো গা না, গীতালিটো গা।’

গীতালিটো মানে গীতালিটা। কোনো-কোনো গ্রামের লোককেও আমি এ রকম টা-এর বদলে টো বলতে শুনেছি। একবার একটা গ্রামের হাটে একটা লোককে বলতে শুনেছিলুম, ‘শাড়িটোর দাম বড্ড বেশি বলছো খুড়ো।’

গীতালির গান গাইতে বলায় গায়ক পাখি এবারও মাথা নাড়লো। আগের মতোই বললো, ‘জানি নাকি? জানি না। জানি নাকি?’

জ্বর-টর হলে আমারও খুব গীতাঞ্জলি, গীতিমাল্য, গীতালি বইয়ের গান শুনতে ইচ্ছে করে। আহারে, একটুখানি গান শোনার জন্যে বুড়ো পাখিটা একেবারে ছটফট করছে। শেষে আর থাকতে না পেরে, ‘থাক তুই, থাক বাছা। মুই যাই ছাতিমলা।’ বলতে-বলতে বুড়ো পাখিটা দুর্বল ডানায় ছাতিমতলার দিকে উড়ে গেল।

শান্টিনিটিন