রাজকাহিনী

প্রকাশকের কথা

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর

এই পাতাটি মূলগ্রন্থের অংশ নয়; এটি সিগনেট প্রেস সংস্করণের “প্রকাশকের কথা”।

শিল্পের যিনি রাজা, তাঁর বিষয়ে কেউ যদি কিছু লেখে সেও ভাবে রাজকাহিনীই লেখে—রাজপুতের গল্প নয়, রাজার গল্প, রঙের রাজার, কথার রাজার। তুলিতে অতুলন—এই শুধু নন অবন ঠাকুর, তিনি কলমেও কারুকর্মা। রেখায় আর লেখায় সমান কারিকরি। কলমের আরেক নাম যে ‘অক্ষরতুলিকা’ সে শুধু তাঁর হাতে এসে। তুলি দিয়ে তিনি অক্ষর আঁকেন, ছবির পর ছবি ফুটে ওঠে তাঁর কলমে। তাই ফের তাঁরই হাতে এসে তুলির আরেক নাম ‘চিত্রলেখনী’।

দেশের দুই দিকপাল, অন্তহীন কালের কাছে অকলঙ্ক, রবীন্দ্রনাথ আর অবনীন্দ্রনাথ। অথচ অত দূর-দুর্গম হয়েও কী আশ্চর্য ঘরের মানুষ এই অবন ঠাকুর, আমার-তোমার হৃদয়ের কাছটিতে তাঁর বাসা। আর, তাঁর মতো গল্প-বলিয়ে কে আছে শুনি ভূ-ভারতে! তাঁর গল্পের যে ভাষা সে যেন মধুমতী নদীতে ভাসমান ময়ূরপঙ্খী। তাঁর বলার ভঙ্গিটা চলার ভঙ্গি। উড়ছ পাখি, উঠছে-পড়ছে ঢেউ, হাওয়া বইছে ঝিরিঝিরি, কখনো বা জোরে ঝাপটা দিয়ে হুলুস্থুল বাধিয়ে। কিন্তু সমস্ত গতিতে রেখার সুসাম্য, ছন্দের সুমিতি।

সেই মধুকণ্ঠ অবন ঠাকুরের গল্প। বীরপ্রসূ রাজপুতানী ও বীরপ্রসূন রাজপুতদের নিয়ে। এই “রাজকাহিনী” একাদশ সংস্করণ পর্যন্ত ছাপা হয়ে হারিয়ে গিয়েছিল, কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক বাংলা ভাষায় প্রবেশিকা পরীক্ষার্থীদের জন্য অনুমোদিত হয়েও সে ছিল হাতের বাইরে। যা হতে চলেছিল প্রায় প্রত্নের সামিল, সেই রত্নকে আমরা উদ্ধার করে এনেছি বিস্মরণের ধূলিতল থেকে। দুই খণ্ড একত্রিত করে, ছবি দিয়ে অলংকৃত করে তুলে দিচ্ছি বাঙালী পাঠকের হাতে। নিখুঁত ছবি এঁকেছেন সিদ্ধহস্ত সূর্য রায়, গল্পের যা মূলবস্তু তাই তাঁর ছবিতে প্রাণস্ফুর্ত হয়ে উঠেছে। “রাজকাহিনী” সত্যি-সত্যিই কাহিনীদের মধ্যে রাজা।