রাজশাহী ফৌজদারি আদালতের খুব বেশি আইনজ্ঞের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়নি। কোর্টে তাদের সওয়াল-জবাব শুনেছি। তবে একজন আইনজ্ঞের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত পরিচয় হয়। এই আইনজ্ঞের নাম হলো আতাউর রহমান। তিনি রাজশাহীর বামপন্থী আন্দোলনের নেতা মাদার বক্সের জামাতা ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের নেতা মহিউদ্দিন আহমদ আমি রাজশাহীতে যোগদানের পরপরই তাকে আমার অফিসে নিয়ে আসেন। তিনি জামিনের আবেদন করলে মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আমাকে অনুরোধ করেন। কেননা তিনি বিনা পয়সায় সমস্ত বামপন্থী কর্মীর প্রতিরক্ষার কাজ করতেন। প্রথম দিন যখন আমি আদালতে যাই, তখন আতাউর রহমান আমার কাছে একটি জামিন আবেদন পেশ করেন। আবেদনের পক্ষে তিনি বলেন, ষাড়, আমার মক্কেল সম্পূর্ণ নির্দোষ, পুলিশ তার বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ নিয়ে এসেছে। ষাড়, তাকে এক্ষুনি জামিন দেওয়া উচিত।’ তার ষাড় সম্বোধনে আমি হতভম্ব হয়ে যাই। কম বয়সে ম্যাজিস্ট্রেট হওয়ায় তিনি কি আমাকে বিদ্রূপ করছেন? ষাড় বলার জন্য কি এই মুহূর্তেই তাঁর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলা রুজু করা উচিত? পরে ভাবলাম এ বিষয়ে আর একটু অনুসন্ধান করি। তবে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে দিই। খাসকামরায় এসে আমি অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটক আতাউর রহমান। আমাকে কেন ষাড় বলেছে, তার সম্ভাব্য কারণ জানতে চাই। তারা হেসে বললেন, স্যার, ওনার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের লোকজন ‘স’ উচ্চারণ করতে পারে না। তারা স্যারকে ষড়ই বলে থাকে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিয়ে লেখাপড়া করে যারা হাকিম হন, তারা এই অঞ্চলে ষাড়ের মর্যাদা লাভ করে থাকেন!
পুরানো সেই দিনের কথা
নবম অধ্যায়
রাজশাহী ফৌজদারি আদালতের আইনজীবী
আকবর আলি খান