শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

সম্পাদকীয়

বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ প্রকাশিত ‘জন্মশতবার্ষিক’ সংস্করণে মুদ্রিত ভূমিকা (সম্পাদকীয়)

জামাতা রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়-সম্পাদিত ‘প্রচারে’ ১২৯৩ বঙ্গাব্দের শ্রাবণ (২য় বৎসর, প্রথম সংখ্যা) হইতে বঙ্কিমচন্দ্র ভগবদ্গীতার ব্যাখ্যান আরম্ভ করেন। ঐ বৎসরের শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন-কার্ত্তিক ও অগ্রহায়ণ-পৌষ সংখ্যায় দ্বিতীয় অধ্যায়ের ষোল শ্লোক পর্য্যন্ত টীকা-সমেত প্রকাশিত হইয়া ‘প্রচারে’ গীতা-প্রকাশ বন্ধ হইয়া যায়। ১২৯৫ সালের বৈশাখ হইতে পুনরায় দ্বিতীয় অধ্যায়ের সতেরো শ্লোক হইতে ব্যাখ্যা সুরু হয়; বৈশাখ, জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র-আশ্বিন, কার্ত্তিক-অগ্রহায়ণ, পৌষ-মাঘ ও ফাল্গুন-চৈত্র সংখ্যায় দ্বিতীয় অধ্যায় সমাপ্ত হয়। ‘প্রচারে’ও ঐ সংখ্যা হইতে বন্ধ হইয়া যায়। পরে অন্য কোন সাময়িক-পত্রে বঙ্কিমচন্দ্রের গীতা-ব্যাখ্যা প্রকাশিত হয় নাই।

বঙ্কিমচন্দ্রের মৃত্যুর পরে ১৯০২ খ্রীষ্টাব্দে রাখালবাবুর পুত্র দিব্যেন্দুসুন্দর বঙ্কিমচন্দ্রের টীকা-সম্বলিত ‘শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা’ প্রকাশ করেন। তিনি “সংগ্রহকারের নিবেদনে” লিখিয়াছেন—

… প্রচারে যেটুক বাহির হইয়াছিল এবং হস্তলিপিতে যেটুকু পাওয়া গেল, তাহা এই পুস্তকে সংগৃহীত হইল। …তিনি [বঙ্কিমচন্দ্র] যেটুকু লিখিয়া গিয়াছিলেন, কেবল সেইটুকু মুদ্রিত করিলেই চলিত। কিন্তু গীতার ন্যায় একখানি ধর্ম্মগ্রন্থ হিন্দুমাত্রেই স্বীয় গৃহে সম্পূর্ণ রক্ষা করিতে ইচ্ছা করেন এবং রাখার প্রয়োজনও আছে। এজন্য অবশিষ্ট মূলও স্বর্গীয় কালীপ্রসন্ন সিংহ মহোদয়ের কৃত অনুবাদ সহ ইহাতে নিবেশিত হইল। …

দেখা যাইতেছে, বঙ্কিমচন্দ্র চতুর্থ অধ্যায়ের ১৯ শ্লোক পর্য্যন্ত ব্যাখ্যা করিয়াছিলেন। আমরা বর্ত্তমান সংস্করণে সেইটুকু মাত্র পুনর্মুদ্রিত করিলাম।

‘প্রচার’ হইতে পুস্তকাকারে পুনর্মুদ্রণকালে স্থানে স্থানে কথা পড়িয়া গিয়াছে। অন্যান্য কয়েকটি ভুল, যাহা আমাদের নজরে পড়িয়াছে, তাহাও সংশোধন করা হইয়াছে।